প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্যারাসিটামল: বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
জ্বর বা ব্যথা হলেই প্রথমে যেটির নাম আমাদের মাথায় আসে, সেটি হলো প্যারাসিটামল। কিন্তু জানেন কি, এই পরিচিত ওষুধ একদিন হয়তো তৈরি হবে আমাদের আশপাশে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেই! শুনতে অবাক লাগলেও, বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই এ দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়ালেস এক অভিনব গবেষণায় দেখিয়েছেন, জিনগতভাবে পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাই প্লাস্টিক ভেঙে ফেলতে পারে এবং তা থেকে তৈরি করতে পারে প্রতিদিন ব্যবহৃত ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামল। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ব্যাকটেরিয়া প্লাস্টিক হজম করে ফেলতে পারে!
অধ্যাপক ওয়ালেসের মতে, ই. কোলাই জৈবপ্রযুক্তির এক অদম্য সৈনিক। এর আগেও তিনি এই ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করে প্লাস্টিক বর্জ্যকে ভ্যানিলা ফ্লেভার এবং নর্দমার তেলচর্বিকে সুগন্ধিতে রূপান্তর করেছিলেন। তার ভাষায়—
👉 “জীববিজ্ঞানের মাধ্যমে কোনো কিছু সম্ভব প্রমাণ করতে চাইলে, ই. কোলাই হলো একেবারে প্রাথমিক হাতিয়ার।”
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। ই. কোলাই শুধু ল্যাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং শিল্পক্ষেত্রেও একে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জীবন্ত কারখানা’ হিসেবে। ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য ইনসুলিন উৎপাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওষুধ ও জ্বালানি তৈরিতে এটি কাজ করছে নিরলসভাবে।
🔬 ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৮৮৫ সালে জার্মান শিশু বিশেষজ্ঞ থিওডোর এসচেরিচ প্রথম শিশুদের অন্ত্র থেকে এই ব্যাকটেরিয়াকে আলাদা করেছিলেন। পরে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এর দ্রুত বর্ধনশীল বৈশিষ্ট্য গবেষণার জন্য আদর্শ। ১৯৪০-এর দশকে জানা যায়, ই. কোলাই শুধু বিভাজিত হয় না, বরং নতুন বৈশিষ্ট্যও অর্জন করতে পারে। এখান থেকেই শুরু হয় আধুনিক জেনেটিক গবেষণার এক নতুন অধ্যায়।
এর ফলেই ১৯৭০-এর দশকে ই. কোলাই হয় প্রথম জীব, যাকে জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার করা হয়। আর এর সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৭৮ সালে—যখন প্রথমবার এই ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে কৃত্রিম মানব ইনসুলিন তৈরি হয়। এর আগে গবাদি পশু বা শূকর থেকে প্রাপ্ত ইনসুলিন ব্যবহারে অনেক রোগীকে অ্যালার্জির শিকার হতে হতো।
আজ সেই একই ব্যাকটেরিয়া হয়তো আমাদের প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে এবং একই সঙ্গে কম খরচে জরুরি ওষুধ সরবরাহ করবে। তাই বলা যায়—
🌍 ভবিষ্যতের ফার্মেসি হয়তো লুকিয়ে আছে আমাদের চারপাশের বর্জ্যের ভেতরেই!
